ফেসবুক-কে ৩০০ কোটি টাকা জরিমানার দাবি

২৫ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৫৮  
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকারের উচিত ফেসবুকের বিরুদ্ধে গুজব রটানোর সহায়তাকারী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা। যদিও আইনগত দুর্বলতা রয়েছে। তবে গত ১ বছর পূর্বে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে যেহেতু সরকার অনুরোধ করেছিল, তাই টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর সংশোধনী ২০১০ এর দফা ৪১(ক) অনুযায়ী ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা বা প্রতিদিনের জন্য ১ কোটি টাকা জরিমান করিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ের গুজব রটানোর দায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, দুই দিন আগেও আমেরিকায় ফেসবুক ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারার কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের আইনগুলি শুধুমাত্র নাগরিকদের শাস্তির জন্য যতটা, কিন্তু এর প্রচার প্রসার, উদ্যোক্ত বা এর ব্যবসায়ীদের ততটা না। তিনি বলেন, সামাজিক আন্দোলন করে এ সকল কু-সংস্কার ও গুজব প্রতিহত করতে হবে। শুধু দমন-পীড়ন করলে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভবনা বেশি। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। মহিউদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে পদ্মা সেতু ও ছেলে ধরাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি, পেইজ, গ্রুপ থেকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে গুজব ছড়িয়ে সাধারণ নাগরিকদের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে কতিপয় চক্র। আর এ ধরনের বিভ্রান্তির কারণে কয়েক মাসে ৩৪ জন ব্যক্তি নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুজব রটনাকারী ও গণধোলাইকারীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে এবং গুজব সৃষ্টি ও গণপিটুনী দায়ে অনেককে আটক করা হয়েছে এবং হচ্ছে। হতে পারে এ অভিযানে অনেক নিরীহ ব্যক্তিও হয়রানির শিকার হতে পারে, যা কাম্য নয়। অনেক প্রতিবাদের পরেও সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ পাস করলে, আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম এই আইন সাধারণ মুক্তমনা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের হয়রানির জন্য। বাস্তবে এ আইন দিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব নয়। কারণ এই আইনে ডিজিটাল ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয় নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জবাবদিহিতা সঠিক ভাবে নিশ্চিত করা হয় নি।